কুড়িগ্রাম ২৩ জুন ২০২৬: কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুড়িকৃবি) শিক্ষা, গবেষণা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নকে গতিশীল করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ কমিটির ৩য় সভা গত ২২ জুন ২০২৬, (রোজ সোমবার) অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য ও অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মুহ: রাশেদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের সংশোধিত এবং ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট অর্থ কমিটিতে অনুমোদিত হয়। নতুন এই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দাঁড় করানো এবং উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক কৃষির উন্নয়নে এই বাজেটকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখার পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং স্থানীয় কৃষি উপযোগী গবেষণাকে এবারের বাজেটে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। একটি আধুনিক ও স্মার্ট বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে কুড়িকৃবি-কে গড়ে তুলতে এবারের বাজেটে তিনটি প্রধান স্তম্ভ নির্ধারণ করা হয়েছে: টেকসই অবকাঠামো, আধুনিক ল্যাবরেটরি স্থাপন এবং জলবায়ু-সহনশীল কৃষি গবেষণা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ের সিংহভাগই আসবে সরকারের রাজস্ব খাত থেকে। এর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কৃষি প্রকল্প ও খামারভিত্তিক আয়ের উৎস তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে অর্থ কমিটি। কুড়িগ্রাম অঞ্চলের ভৌগোলিক বাস্তবতাকে মাথায় রেখে বন্যা ও খরা সহনশীল জাত উদ্ভাবনে বরাদ্দ দেয়ার জন্য মতামত দেওয়া হয়। বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও তিস্তার চরাঞ্চলের উপযোগী কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণে "বিশেষ চরাঞ্চল গবেষণা তহবিল" এর অনুমোদন দিয়েছেন ।
শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের শিক্ষাদান নিশ্চিত করতে বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি ক্রয়, ডিজিটাল লাইব্রেরি স্থাপন এবং উচ্চগতির ইন্টারনেট সম্বলিত আধুনিক আইসিটি (ICT) ল্যাব তৈরিতে বড় অঙ্কের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্থায়ী ক্যাম্পাসের প্রাথমিক উন্নয়ন কাজ, সীমানা প্রাচীর এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জরুরি পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করতে পরিবহন খাতে অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার জন্য মতামত দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের জন্য মেধাবৃত্তি, প্রদান করা হচ্ছে এবং বরাদ্দ বৃদ্ধির জন্য সুপারিশ করা হয়।
অর্থ কমিটির সভায় সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ সঠিক ব্যবহার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই বিলাসী বা অপ্রয়োজনীয় ব্যয় সম্পূর্ণ পরিহার করে প্রতিটি টাকা যাতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণার পেছনে ব্যয় হয়, অর্থ কমিটি সেই রূপরেখাই তৈরি করেছে।
উপাচার্য মহোদয় অভিমত ব্যক্ত করে বলেন: কুড়িগ্রামের মতো একটি কৃষিপ্রধান এবং নদী ভাঙন প্রবণ ও চরাঞ্চল এলাকায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অপরিসীম। অর্থ কমিটি যদি গবেষণার বরাদ্দ সঠিক খাতে ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারে, তবে এই বাজেট শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন করবে না, বরং পুরো উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক সমৃদ্ধি এবং দেশের সামগ্রিক কৃষি খাতে বিশ্ববিদ্যালয়টির কার্যকর অবদান রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।