Here you will see the details of a News or Event

কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত।

কুড়িগ্রাম, ১৬ জুলাই ২০২৬: কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে দ্বিতীয়বারের মতো পালিত হয়েছে ‘জুলাই শহীদ দিবস’। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের স্মরণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে স্মরণসভা, আলোচনা সভা ও বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহঃ রাশেদুল ইসলাম। এ ছাড়া কৃষি অনুষদের ডিন, বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষকবৃন্দ, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের বীর শহীদদের অসীম সাহস, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেম গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তাঁরা বলেন, একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে শহীদদের আদর্শ ধারণ করে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে কাজ করে যাবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহঃ রাশেদুল ইসলাম বলেন, “স্বৈরাচার পতনের লক্ষ্যে যাঁরা জীবন বাজি রেখে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, বুক পেতে দাঁড়িয়েছিলেন এবং গুলিবিদ্ধ হয়েছেন—তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। এমনকি জুলাই অভ্যুত্থানে ঘরের ভেতর ঘুমন্ত কোলের শিশুও যেভাবে বুলেটের আঘাতে প্রাণ হারিয়েছে, তা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। আল্লাহ যেন সকল শহীদকে বিনা হিসাবে জান্নাত দান করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা দান করেন।”

তিনি আরও বলেন, “জুলাই আন্দোলনের ভিত্তি রচিত হয়েছে বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকে। কোনো পরিবার তার স্বামীকে হারিয়েছে, সন্তান হারিয়েছে তার বাবাকে, বাবা-মা হারিয়েছেন তাঁদের সন্তানকে—স্বৈরাচারী আমলে ভিন্ন মতাদর্শের হওয়ার কারণে অনেক নিরপরাধ মানুষ গত ১৭ বছর গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন। এমনকি রাস্তায় বের হতে ভয় পেত, ঘরে ফেরার কোনো নিশ্চয়তা ছিল না।”

আজ আমরা যে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ পেয়েছি, তা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বীর শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত। তরুণ প্রজন্মের সেই অসীম সাহসিকতা ও আত্মোৎসর্গ বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। শহীদদের রক্তের ঋণ আমরা কখনো শোধ করতে পারব না; তবে আমাদের দায়িত্বশীল কর্ম, সততা ও দেশপ্রেমের মাধ্যমে তাঁদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যেতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের মাতৃভূমিকে দ্বিতীয়বারের মতো স্বাধীনভাবে ফিরে পেয়েছি। দেশ গঠনে বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান দিনরাত যে অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন তাঁকে অনুসরণ করে আমাদের আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে, দেশকে স্বনির্ভর করতে হবে।”

আলোচনা সভা শেষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী  মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ও জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে শাহাদাতবরণকারী সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা প্রার্থনা করা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনা করে, দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তরোত্তর সাফল্য ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।

ধন্য সেই বীরেরা, যাঁদের আত্মত্যাগ আমাদের দেখিয়েছে একটি নতুন ভোরের স্বপ্ন। শহীদদের রক্তে অর্জিত এই চেতনা চিরকাল বয়ে নিয়ে যাবে এই নতুন বাংলাদেশ।