Here you will see the details of a News or Event

কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত।

কুড়িগ্রাম, ১লা জুলাই ২০২৬: পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে একটি বিশেষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ঘোষিত '৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ' কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (কুড়িকৃবি)। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহঃ রাশেদুল ইসলাম। তিনি বলেন কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত আজকের এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ, বাসযোগ্য ও নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণের দৃঢ় অঙ্গীকার। স্বাধীনতার পর সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান দেশব্যাপী গণ-বনায়ন আন্দোলনের যে প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি রচনা করেছিলেন, সেই ধারাবাহিকতায় আজ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই মহৎ জাতীয় উদ্যোগের অংশ হতে পেরে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার সত্যিই গর্বিত ।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান-এর ঐতিহাসিক স্লোগান—"গাছ লাগান, পরিবেশ বাঁচান এবং দেশের সম্পদ বৃদ্ধি করুন। আসুন, প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় ও খালি জায়গায় গাছ লাগিয়ে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে সবুজ ও স্বনির্ভর করে তুলি"—কে সামনে রেখে মাননীয় উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে বলেন, "সবুজ বিপ্লব ও সামাজিক বনায়নের এই দর্শন আজও আমাদের পরিবেশ রক্ষায় সমভাবে প্রাসঙ্গিক।" তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, "পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং নিজেদের ও পরিবারের পুষ্টির চাহিদা নিশ্চিত করতে বৃক্ষরোপণ করা অত্যন্ত জরুরি। বৃক্ষ আমাদের অক্সিজেন ও ছায়া দেওয়ার পাশাপাশি ফুল, ফল ও কাঠ দেয় এবং মাটির ক্ষয়রোধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।"

নতুন প্রজন্মকে বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করতে সরকারের এই মহৎ উদ্যোগের পাশাপাশি নিজেদের ও দেশের সার্বিক প্রয়োজনে এই কর্মসূচি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়াও তিনি আরও উল্লেখ করেন, আমরা যখন বিভিন্ন উদ্যোগে বেশি বেশি গাছ লাগাই, তখন আমরা আসলে নতুন নতুন কার্বন সিংক তৈরি করি, যা বায়ুমণ্ডল থেকে গ্রিনহাউস গ্যাস, বিশেষ করে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে নিজের মধ্যে জমা করে রাখে।

উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এছাড়াও অনুষ্ঠানে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা প্রত্যেকে অন্তত একটি করে গাছ লাগিয়ে তা পরিচর্যা করার ওপর জোর দেন।

আলোচনা সভা শেষে এই কর্মসূচির আওতায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্রীরা অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই মহৎ উদ্যোগে অংশ নেন।

সবশেষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি সবুজ, সুন্দর ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।