কুড়িগ্রাম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬: আনন্দঘন পরিবেশ ও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুড়িকৃবি) ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আজ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রি. দিনব্যাপী নানা বর্ণাঢ্য কর্মসূচি পালন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
কর্মসূচির মধ্যে ছিল- জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন, আনন্দ র্যালি, কেক কাটা, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিশেষ স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন, ই-সেবা উদ্বোধন, আলোচনা সভা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাবিষয়ক আয়োজন।
দিনের শুরুতে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে মূল কর্মসূচির সূচনা হয়। এরপর মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহঃ রাশেদুল ইসলাম এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোছাঃ নুর মহল আখতার বানু বেলুন উড়িয়ে এক বর্ণাঢ্য র্যালির উদ্বোধন করেন। র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী একাডেমিক ভবন থেকে শুরু হয়ে অস্থায়ী প্রশাসনিক ভবন প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একাডেমিক ভবনে এসে শেষ হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেন।
র্যালি শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মূল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহঃ রাশেদুল ইসলাম। উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোছাঃ নুর মহল আখতার বানুর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষার্থী বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল আলীম।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শিক্ষার্থীবৃন্দ উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য মহোদয়কে ক্রেস্ট প্রদান করে শুভেচ্ছা জানান। এরপর ৩য় ব্যাচের শিক্ষার্থী ফিরোজ আহম্মেদ পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত এবং ২য় ব্যাচের শিক্ষার্থী হৃদি দাস পবিত্র গীতা পাঠ করেন। আলোচনা সভার পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কর্মকাণ্ড ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার উপর নির্মিত একটি তথ্যবহুল প্রামাণ্যচিত্র (ডকুমেন্টারি) প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানসূচির এক পর্যায়ে মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহঃ রাশেদুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ই-লাইব্রেরি মডিউল’, ‘স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবা’ এবং কৃষি ও মৎস্য অনুষদের জন্য তৈরি করা নতুন ওয়েবপেজের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহঃ রাশেদুল ইসলাম। তিনি বলেন, “দেশের অর্থনৈতিক ও সামগ্রিক প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবেলা করে বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি সন্তোষজনক স্থানে দাঁড় করানো সম্ভব হয়েছে। নতুন প্রতিষ্ঠিত অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় কুড়িকৃবি অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে।”
তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে নতুন ব্যাচের ক্লাস শুরু করা সম্ভব হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিরলস পরিশ্রম ও আন্তরিকতার জন্য তিনি ধন্যবাদ জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়কে আধুনিক গবেষণাগার ও প্রযুক্তিসমৃদ্ধ একটি ‘স্মার্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে গড়ে তোলার রূপকল্প ব্যক্ত করে উপাচার্য খুব দ্রুত স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। এছাড়া শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ, ব্যক্তিগত ও একাডেমিক সমস্যা দূর করতে একটি বিশেষ 'স্টুডেন্ট সাপোর্ট সেল' গঠনের ঘোষণা দেন তিনি, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাবেন। একই সাথে আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহে উচ্চশিক্ষা, স্কলারশিপ ও পিএইচডি আবেদনের সুযোগ তৈরিতে শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত গাইডলাইন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে উপাচার্য বলেন, “শুধুমাত্র ডিগ্রি অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে মানবিক গুণাবলী অর্জন করতে হবে, অভিভাবকদের ত্যাগের মর্যাদা দিতে হবে এবং দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারে সব শিক্ষার্থীর একটাই পরিচয়- তারা কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্তান। বিভিন্ন মত-পথ বা আঞ্চলিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে নিয়ে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাব।”
সভাপতির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোছাঃ নূর মহল আখতার বানু বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আগামী দিনে একটি অত্যাধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ স্থায়ী ক্যাম্পাস গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, গবেষণাগার, প্রশাসনিক ভবন, আবাসিক হল ও শিক্ষক কোয়ার্টার থাকবে।
শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের পাশাপাশি এই অঞ্চলের কৃষকদের বাস্তব সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও তা সমাধানের লক্ষ্যে গবেষণা পরিচালনার ওপর বিশেষ জোর দেন উপ-উপাচার্য। তিনি কুড়িকৃবি-কে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। একই সাথে শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও জ্ঞানপিপাসু হতে এবং শিক্ষকদের আদর্শ ও নীতিবান মানুষ হিসেবে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার পরামর্শ দেন।